আসসালামু আলাইকুম দাজ্জাল কোথায় আছে এ সম্পর্কে বহু হাদিস এবং কুরআনের কারীমে এবং বিভিন্ন হাদিসের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। বর্তমান দুনিয়াতে যেগুলো ঘটছে ইহুদিরা যেভাবে মুসলমানদের উপরে নিশংস অত্যাচার চালাচ্ছে এবং মুসলমানদের যেভাবে হত্যা করছে। মুসলমানদের নিরাশার জন্য ইমাম মাহদীকে আগমন করবেন আর এই ইমাম মাহাদীর কারণে মুসলিম বিষয়গুলো একত্রিত হবে। ইতিমধ্যে আমরা বিভিন্ন দেশগুলোতে দেখতে পাচ্ছি প্রত্যেকটা দেশের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটছে এবং মুসলমানদের ধীরে ধীরে বিজয় হচ্ছে।
দুনিয়ার মধ্যে অনেক বড় একটা ধর্ম যুদ্ধ হবে সে ধর্মযুদ্ধের নাম হচ্ছে হিন্দু যুদ্ধ অর্থাৎ মহাভারতে যুদ্ধ সংঘটিত হবে সেই যুদ্ধকে হিন্দি যুদ্ধ বলে। কোন কোন কিতাবে আছে যে গাজওয়াতুল হিন্দী যুদ্ধের পরে ইমাম মাহদীর আগমন ঘটবে এবং ইমাম দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। দাজ্জালের আবির্ভাব হলে সে সমগ্র দুনিয়াতে বিতরণ করবে অল্প কিছুদিনের মধ্যে আবার এই দিনগুলো কি রকম হবে সেটি আল্লাহ তয়ালাই ভালো জানেন।
আরো পড়ুন : দোয়া পড়লে কেয়ামত পর্যন্ত সোওয়াব
একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়াসসালাম মসজিদের মেম্বারে উঠে সকলকে একত্রি করে ঘোষণা দিলেন যে তার কাছে একজন ইহুদী এসেছিল এবং সে পরবর্তীতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। কিন্তু সেই ইহুদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়াসসালাম কে দাজ্জালের বর্ণনা দিলেন। তার অর্থ এই দাড়ালো যে সে ইহুদি দাজ্জালের সাক্ষাৎ করেছিলেন।
ইহুদি রাসূল (সাঃ) কে বলেন, সেই দীর্ঘদিন যাবত সমুদ্রের মধ্যে যাতায়াত করছিল এবং ঝড়ের কারণে সমুদ্রের মধ্যে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকে একটা সময় সে একটি দ্বীপে গিয়ে পৌঁছালো এবং সেদিকে দাজ্জালের দ্বীপ বলা হয়। ঘটনাটি এরকম ঘটেছিল যে সেই ইহুদি নিজের কাজের জন্য সমুদ্র পাড়ি দিয়েছিল এবং সমুদ্র পাড়ি দিতে দিতে একটি সমুদ্রের ঝড়ের মুখে তারা পড়ে। কয়েক মাস তারা এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করতে করতে তারা একটি দ্বীপে গিয়ে পৌঁছায় সে দ্বীপে মূলত তাদের সঙ্গে দাজ্জালের সাক্ষাৎ হয় এবং সে তার দ্বারা সাক্ষাৎ হওয়ার আগে আরেকজনের সাথে তাদের সাক্ষাৎ হয়।
আরো পড়ুন : কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা
ইহুদি রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়াসসালামকে বর্ণনা কালে বলেন সে স্থানটি হয়তো ইয়েমেন এবং সিরিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে হবে কেননা তার ব্যবসায়ী যাতায়াতের জন্য সে সবসময় এখান দিয়ে চলাফেরা করে এবং এখানকার কোন দাজ্জালের অবস্থান হবে।
বর্ণিত আছে সেই দ্বীপে গিয়ে পৌঁছানোর পরে তারা দেখতে পেল এমন একটি লোক যার শরীরে অনেকগুলো লোম এবং তার জিব্বা অনেক বড় এবং তার চোখ গুলো অনেক বড় এবং তাকে দেখতে অনেক ভয়ানক দেখাচ্ছিল তখন তারা তাকে অভিশাপ দিয়ে বলল তোমার অমঙ্গল হোক কে তুমি উত্তরের সে বলল তার নাম হলো জাসসাস। এরপর তারা সে জাসসাসএর সাথে দেখা করার পর সে জাসসাস বলল ভেতরে একজন লোক তোমাদের সামনে তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন তোমরা তার সাথে গিয়ে দেখা কর।
আরো পড়ুন : লাই লাতুল কদর দোয়া
তারা যখন ভিতরে প্রবেশ করল তারা একটি লোককে শক্তিশালী শিকলের সাথে বাধা অবস্থায় পেলে এবং তারা তাকে জিজ্ঞাসা করল তুমি কে উত্তরে সে বলল আমি আমার পরিচয় পরে দিব আগে বলো তোমরা কে তখন তারা তাদের পরিচয় দিল তখন সেও তার পরিচয় আর সে বলল আমি হলাম দাজ্জাল এবং আমি দুনিয়াতে আগমন করবো খুবই শীঘ্রই এবং দুনিয়াতে ৪০ দিনের ভিতরে সমগ্র দুনিয়া ভ্রমণ করব এবং আমার ফেতনা চারিদিকে ছড়িয়ে দিতে থাকবো এবং সেই ব্যক্তিটির একটি চোখ অন্ধ ছিল।
এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়াসসালাম বলেন,যে আমি তোমাদেরকে ইতিপূর্বে দাজ্জালের বর্ণনা দেইনি। তখন সাহাবীগণ বলেন যে আপনি আমাদেরকে দিয়েছেন কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়াসসালাম ইতিপূর্বে দাজ্জালের বর্ণনা দিয়েছেন যে দাজ্জাল বেরিয়ে পড়বে তার একটি চোখ অন্ধ হবে এবং তার এক হাতে থাকবে জান্নাত আর এক হাতে থাকবে জাহান্নাম কিন্তু সে যেদিকে জান্নাত বলবে সেটি হবে জাহান্নাম আর যেদিকে জাহান্নাম বলবে সেটি হবে জান্নাত।
বর্ণিত আছে দাজ্জালের হাতে এমন শক্তি থাকবে সে চাইলে ফসল মুহূর্তের মধ্যে উৎপাদন করতে পারবে। দাজ্জালের এতই ক্ষমতা আছে যে দাজ্জাল যে কারো পিতা-মাতাকেও পর্যন্ত জীবিত করল সে মূলত তার পিতা-মাতা নয় সে মূলত শয়তান রূপ ধরে আসা তার পিতামাতা অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যখন দাজ্জাল কে বলবে যে আমি আপনি আমার পিতা মাতাকে জীবিত করুন। তখন শয়তান কে বলবে তুমি তার পিতা মাতার রূপ ধরে এসো।
দাজ্জালের আগমনে দুনিয়াতে এমন বহু ঘটনা ঘটবে যা আমরা হাদিস এবং পবিত্র কোরআন থেকে দেখতে পাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাম বলেন আমরা যেন নামাজের পরে যেন আমরা পড়ি আউযুবিকা ফিতনা দিল মাসিদ দাজ্জাল। অর্থাৎ হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা করুন।
0 মন্তব্যসমূহ