Comment

কুরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা ফাতেহা, নাস, ফালাক, বাকারাহ।

আসসালামু আলাইকুম পবিত্র কোরআনের গুরুত্বপূর্ণ সূরা সমূহ গুলো কি তা আমাদের মধ্যে জানার জন্য অনেকেই খুবই ইচ্ছুক। পবিত্র কুরআনের প্রত্যেকটি সূরায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ আল্লাহতায়ালা পবিত্র কুরআনের প্রত্যেকটি সূরাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সহকারে রাসুলের উপর নাযিল করেছেন। এই সূরাগুলোর গুরুত্ব এতটাই বহন করে যে আল্লাহতায়ালা দুনিয়াবী শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বর্তমানে দুনিয়ার শেষ হওয়া পর্যন্ত সকল কিছু পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে দান করেছেন।

পবিত্র কুরআনের সর্বপ্রথম সূরা হলো সূরা ফাতেহা, এই সূরার ফজিলত এবং গুরুত্ব কতটুকু তা আমরা রাসূল (সাঃ) এর থেকে জানতে পারি।

আরো পড়ুন : রাজত্বের দোয়া 

যেমন একটি লোক কে যখন সাপে কামড় দেয় তখন এক সাহাবীর মুখের থুতু দিয়ে সূরা ফাতেহা পড়ে যখন তার পায়ে লাগিয়ে দেয় তখন তার পা থেকে বিষ বেরিয়া আসে। এরপর কোন ব্যক্তি যখন পবিত্র সুরা পাঠ করে অর্থাৎ সে তখন পবিত্র কুরআনের হাজার হাজার শব্দ উচ্চারণ করল।কারণ পবিত্র কোরআনে যে সকল শব্দ গুলো আছে তা পবিত্র কুরআনে কয়েক হাজার বার উচ্চারিত আছে।

এছাড়া সুরা ফাতেহার যখন কেউ যখন পাঠ করবে তখন আল্লাহ তা'আলা ওই ব্যক্তির রিজিক বৃদ্ধি করে দিবেন। এই সূরা বান্দার রিযিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। এছাড়া কোন ব্যক্তি যদি রাতে শোয়ার পূর্বে এই সূরা ৪১ বার পাঠ করে আল্লাহ তা'আলা তার রিজিক বৃদ্ধি করে দিবেন। এক কথায় কোন ব্যক্তি যখন অসুস্থ হয় এ সূরা পাঠ করলে আল্লাহ তা'আলা তাকে অবশ্যই সুস্থতা দান করবেন এছাড়া কোন ব্যক্তি যখন রিজিকে ভুগছেন তখন যদি সে ব্যক্তিটি এই সূরা নিয়মিত পাঠ করে তখন আল্লাহতায়ালা তার বৃদ্ধি করে দিবেন ইনশাআল্লাহ।

একবার আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়াসসালাম কে ব্ল্যাক ম্যাজিক করা হয় অর্থাৎ কালো জাদু করা হয়। এই কালো জাদুর কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই ওয়াসসালাম ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এই অসুস্থ কোনভাবে সেরে উঠতে পারছেন না। তখন আল্লাহ তা'আলা রাসূলের স্বপ্নে দুজন ফেরেশতাকে পাঠালেন। তারা বিশ্ব নবীর কাছে এসে একজন মাথার পাশে এবং একজন পায়ের পাশে বসে কথোপকথন করতে লাগলেন যে কিভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাবিজ করা হয়েছে অর্থাৎ কালো জাদু করা হয়েছে।

আরো পড়ুন :

এরপর আল্লাহ তায়ালা ওই দুইজন ফেরেশতার মাধ্যমে বিশ্ব নবীকে জানিয়ে দিলেন যে কিভাবে তাকে তাবিজ করা হয়েছে এবং এ তাবিজ থেকে তাকে পরিত্রাণ করতে পারে কোনগুলো তখন আল্লাহতালা পবিত্র কুরআনের মধ্যে তখন আল্লাহ তা'আলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম  উপর সূরা নাস এবং সূরা ফালাক নাযিল করলেন।

সূরা নাস এবং সূরা ফালাকের গুরুত্ব অপরিসীম কেননা এই সূরা মানুষকে কালো জাদু এবং এবং মানুষের বদনজর থেকে হেফাজত করতে সাহায্য করে। কোন ব্যক্তি যদি ফজরের নামাজের পরে সূরা ফালাক সূরা নাস এবং সূরা ইখলাস তিনবার পড়ে সমস্ত গায়ে ফুল দেয় তখন তাকে কালোজাদু স্পর্শ করবে না এরপর তখন এরপর যখন সে মাগরিবের নামাজের পর সূরা নাস একবার সূরা ফালাক একবার এবং সূরা ইখলাস একবার পড়ে সমস্ত গায়ে ফু দিবে তখনও তাকে কালো জাদু এবং খারাপ কোন বস্তু থাকে স্পর্শ করবে না।

এ দুটি সূরা নাযিল হওয়ার পর অর্থাৎ সূরা ফালাক এবং সূরা নাস নাযিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ওয়াসসালাম প্রায় সময় পাঠ করতেন কেননা এ দুটি সূরার মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত। বর্তমান মানুষকে যখন কালো জাদু করানো হয় তখন মানুষ জঘন্য পাপে লিপ্ত হয় অর্থাৎ কাউকে যখন কালো জাদু করা হয় তখন সে কালো জাদু থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আরেকজন সে কালো জাদু করে তার কাছে যায় কিন্তু আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে এর শেফা দিয়ে রেখেছেন তা হয়তো অনেকে জানেন না। যখন কাউকে কালো জাদু করা হবে তখন যেন সে নিয়মিত এই সূরা ফালাক এবং সূরা নাস পাঠ করতে থাকে এবং সমস্ত গায়ের যতটুকু পর্যন্ত হাত দেয় ততটুকু পর্যন্ত মাসেহ করে এরপর পর তাকে আর অদৃশ্য কোন খারাপ কিছু স্পর্শ করতে পারবে না ইনশাল্লাহ।

পবিত্র কুরআনের অন্যতম এবং সবচেয়ে বড় সূরা হচ্ছে বাকারা। এর গুরুত্ব কতটুকু বলে শেষ করা যাবে না এর পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূরা আছে সে সূরাটি হচ্ছে সূরা আল ইমরান। বিভিন্ন সাহাবী থেকে শোনা যায় যেমন সাহাবী মাসউদ এবং সাহাবী রাবি আলাহি সালাম থেকে শোনা যায় এ সূরার গুরুত্ব কতটুকু। কোন ব্যক্তি যখন রাতে শোয়ার পূর্বে সূরা বাকারার শেষ তিন আয়াত পাঠ করবে তখন সে তিন আয়াতেই তার জন্য যথেষ্ট হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কোন ব্যক্তি যখন সূরা বাকারা নিয়মিত পাঠ করবে তখন কেয়ামতের ময়দানে এই সূরা বাকারার তার জন্য সে সাফায়েত হিসেবে কাজ করবে। 

এছাড়া এ সূরা আল্লাহ তায়ালার পবিত্র কোরআনের সবচাইতে বড় সূরা। আল্লাহতালার ইচ্ছায় যদি কোন ব্যক্তি এ সূরা পাঠ করে তাহলে জাদু ঘন্টায় এবং বদনজর এবং দ্বীন শয়তানের থেকে হেফাজতে থাকবে ইনশাআল্লাহ। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ